কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৩, ০২:১৯

.png)
কুড়িগ্রামে পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও সজীব আলী নামে এক শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে। তার বৃত্তি পরীক্ষার রোল নম্বর-২৪।https://adfinix-ads.sgp1.cdn.digitaloceanspaces.com/frutica3d_300250_130220230519/frutica3d_300250_130220230519/index.html
PauseUnmuteLoaded: 19.71%
সজীব জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার চর গোরক মণ্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গোরকমন্ডল গ্রামের হুজুর আলী ও ছকিনা বেগম দম্পতির ছেলে।null
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, সজীব আলী ফরম পূরণ করলেও ৩০ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। ওই কেন্দ্রের ১০১ নম্বর কক্ষে সে অনুপস্থিত ছিল।
এদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক বৃত্তির ফলাফল প্রকাশিত হলে দেখা যায় উপজেলায় ৪৪ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৭ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এদের মধ্যে ফলাফল সিটে সজীবের ২৪ রোল রয়েছে।

এ বিষয়ে চর গোরকমন্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) এ টি এম শফিকুল আলম জানান, সাতজন শিক্ষার্থীর নাম ডিআর ভুক্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে রোল নম্বর- ২৪, ২৫ ও ৩০ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন ওই ছাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। ফলাফল সিটে তার রোল কীভাবে এসেছে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, সে তালিকায় অনুপস্থিত থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণ দেখিয়ে দুপুরে প্রকাশিত প্রাথমিকের বৃত্তির ফলাফল বিকেলে স্থগিত করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) সিনিয়র সিস্টেস অ্যানালিস্ট অনুজ কুমার রায়।

হিলিতে প্রথমবার সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ শুরু
হিলি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:১০ আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৩:৫২

দিনাজপুরের হিলিতে এই প্রথমবারের মতো সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রথমে ২৫টি বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ শুরু করলেও পরবর্তিতে ৮০টি বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করেন চাষিরা। এক সপ্তাহ পর পর প্রতিটি মৌ বক্স থেকে মধু আহরণ হচ্ছে তিন থেকে চার কেজি। আগামীতে আরও বড় পরিসরে কৃষকদের নিয়ে মধু চাষের আশা উপজেলা কৃষি বিভাগের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সীমান্তবর্তী হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার মাঠগুলোতে সরিষা চাষ হচ্ছে। এতে দৃষ্টিসীমাজুড়ে হলুদ আর হলুদ। সরকারি সহযোগিতায় এ উপজেলায় বেড়েছে সরিষার চাষ। সেই সুযোগে ফাঁকা ১৬ শতক জমির ওপর মধু সংগ্রহে বসিয়েছেন ৮০টি বক্স। এখান থেকে সপ্তাহে ৪-৫ মণ মধু সংগ্রহ করছেন চাষিরা।
মৌ চাষিদের বক্সে পালিত মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌ বক্সে জমা করছে। চাষিরা প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে তা বিক্রি করছেন। মৌ চাষের মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছে। একই সঙ্গে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। প্রতি কেজি মধু বিক্রি করছেন ৪০০ টাকা করে। স্থানীয় ছাড়াও আশপাশে এলাকার লোকজন এসব মধু কিনছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, এ উপজেলায় এবার সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮০০ হেক্টর, আর অর্জন হয়েছে ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমি।
এদিকে এলাকায় প্রথম মৌ বক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের যেকোনো সহযোগিতার আশ্বাস কৃষি বিভাগের। আগামীতে কৃষকদের নিয়ে আরও বড় পরিসরে মৌ বক্স স্থাপন করার আশা উপজেলা কৃষি বিভাগের।

শিক্ষার্থী-শ্রেণিকক্ষ নেই, তবুও সরকারি বিদ্যালয়
কুড়িগ্রাম (উত্তর) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৭ আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:৫৫

শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষ কিংবা অবকাঠামো কোনোটিই নেই, তবুও এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাস্তবে আছে শুধু পতাকা, সাইনবোর্ড আর শিক্ষক। ঢাল-তলোয়ার ছাড়া নিধারাম সরদারের মতো। এমনই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখা গেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে।
স্কুলটির নাম উত্তর মাঝের চর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। খাতা-কলমে স্কুলটিতে রয়েছে পাঁচজন শিক্ষক ও ৮০ জন শিক্ষার্থী। মাঝেমধ্যে শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও থাকে না শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাদি জমির মাঝখানে কয়েকটি খুঁটির ওপরে একটি ছোট টিনের চাল। বেড়া-দরজা-জানালা কিছুই নেই। তবে চালের সামনে বাঁশের আগায় জাতীয় পতাকা উড়ছে। স্কুলটির সামনে একটি সাইনবোর্ড আছে; যাতে বিদ্যালয়ের নাম লেখা। দুটি ভাঙা বেঞ্চ আর কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার এবং একটি টেবিলের ওপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে পাওয়া যায়।
সেখানে দুয়েকজন অভিভাবকসহ বসে আছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক। নেই কোনো শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষকদের পাঠদানের ব্যস্ততা। বিদ্যালয়টিতে যাওয়ার কোনো সড়ক বা পথ নেই। যেতে হয় আবদি জমির আইল ধরে।
সহকারী শিক্ষক আশরাফিয়া বিনতে আকতার বলেন, বিদ্যালয়ে আসার কোনো পথ নেই। জমির আইল দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। এজন্য বাচ্চারা বিদ্যালয়ে আসে না। বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আসে। জমির আইল ভিজে থাকায় প্রায় সময় পিছলে পড়ে আহত এবং পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
অভিভাবক কাজলি বেগম বলেন, স্কুলের ঘর নেই, শুধু পতাকা, সাইনবোর্ড আছে দেখে বোঝা যায় এটি স্কুল। কিন্তু বাস্তবে টিনের চাল টুকু দেখে কেউ বুঝতে পারবে না এটা সরকারি স্কুল।
অভিভাবক লাইলী বেগম বলেন, সরকারি স্কুল হলেও এখানে ঘর, বেঞ্চ, টিউবওয়েল, টয়লেট এমনকি স্কুলে আসার রাস্তাও নেই। এমন পরিবেশ দেখে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এখানে পাঠান না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন বলেন, বিদ্যালয় স্থানান্তর আর জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ অবস্থা। দানকৃত জমিতে দাগ নম্বরের সমস্যার কারণে নতুন ভবন হচ্ছে না। অথচ একই মালিকের জমি বিদ্যালয়ের চারপাশে। বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দ আসলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অর্থ ছাড় হচ্ছে না।
জমিদাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, আমি এক বিঘা জমি দান করেছি বিদ্যালয়ের নামে। এখন জমি-সংক্রান্ত কি জটিলতা হয়েছে তারাই ভালো জানেন। প্রায় দুই বছর থেকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি না থাকা এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন না হওয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যা থাকায় ভবন করা যাচ্ছে না। সদর অ্যাসিল্যান্ডসহ (ভূমি কর্মকর্তা) বিদ্যালয়ের স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। জমি-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে প্রধান শিক্ষককে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টির এমন নাজুক অবস্থা।












