রাজা ও বিচক্ষণ জেলের গল্প!!
রাজ দরবারে একদিন এক জেলে একটি বড়সড় মাছ নিয়ে গেলো।
রাজামশাই মাছটি দেখে খুব খুশি হলেন কারণ মাছ তাঁর খুব প্রিয় খাবার ছিলো।
এজন্য রাজামশাই খুশি হয়ে জেলেকে ৫০ টাকা দিয়ে দিলেন।
সেই আমলে ১০ টাকা মানে অনেক কিছু।তাহলে ৫০ টাকা মানে অনেক টাকা!
এদিকে পাশেই বসে থাকা রাণী ফিসফিস
করে রাজাকে বললেনঃ
এই মাছটার দাম তুমি ৫০ টাকা দিয়ে দিলে?
বড়জোর খুশি হয়ে তাকে ১৫ থেকে ২০ টাকা দিতে পারতে।
মাছ ফেরত নিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলো।
রাজামশাই বললেনঃ একি বলো রাণী?।
রাজারা যা বলে তা নড়চড় করা অসম্ভব তাছাড়া এটাতো রাজাদের ইজ্জতের ব্যাপার।
রাণী বললেনঃ
আমি এমন একটা বুদ্ধি দিচ্ছি যা প্রয়োগ করলে তোমার সন্মানের কোনো হানি হবে না।
জেলে মাছ নিয়ে টাকাও ফেরত দিবে।
রাজামশাই বললেনঃ কি বুদ্ধি?
রাণী বললেনঃ জেলেকে ডেকে বলবে, তোমার মাছটা কি পুরুষ না স্ত্রী?
যদি জেলে বলে মাছ পুরুষ তাহলে তুমি বলবে আমার স্ত্রী মাছ লাগবে আর যদি জেলে বলে মাছ স্ত্রী তাহলে তুমি বলবে আমার পুরুষ মাছ লাগবে।
অতএব,জেলে তখন মাছ ফেরত নিতে বাধ্য হবে।
রাজা রাণীর বুদ্ধিতে খুশি হয়ে জেলেকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ
তোমার মাছটা কোন জাতের? পুরুষ না স্ত্রী?
জেলে থতমত হয়ে একটু ভেবে চিন্তে বললোঃ
জাঁহাপনা, আমার মাছটা পুরুষও না স্ত্রীও না।
আমার মাছটা হলো হিজড়া।
এবার রাজদরবারে হাসির রোল পড়ে গেলো। রাণীও শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে হাসলেন।
রাজা জেলের বিচক্ষণতা দেখে খুশি হয়ে আরও ৫০ টাকা দিয়ে দিলেন।
জেলে খুশি হয়ে মোট ১০০ টাকা পোটলায় নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।
রাজমহলের মেইন গেইটের সামনে যেতেই পোটলা থেকে ৫ টাকার মাটিতে পড়ে গেলো।
জেলে তা তুলে চুমু খাচ্ছে, কপালে লাগাচ্ছে।
এদিকে রাণী তা দেখে রাগে ফোঁস ফোঁস করছে।
রাণী বললেনঃ জাঁহাপনা, এই জেলে এত লোভী কেন?
১০০ টাকা থেকে মাত্র ৫ টাকা পড়ে গেছে জেলের তা সহ্য হচ্ছে না।
জাঁহাপনা আপনি তাঁকে শাস্তি দেন।
রাজাও ভাবলেন, ঠিকই তো, মাত্র ৫ টাকা পড়ে গেছে।
গেট দিয়ে কতো গরিব মানুষ আসা যাওয়া করে তারা না হয় কুঁড়িয়ে নিতো।
রাজামশাই জেলেকে ডেকে বললেনঃ
এই লোভী জেলে?
তোমার এতো লোভ কেন?
এতো টাকা দিয়েছি তোমায় মাত্র ৫ টাকা লোভ সামলাতে পারলে না?
তা তুলে চুমু খাচ্ছো? তোমাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
জেলে বললঃ জাঁহাপনা আমি কিন্তু লোভের কারণে ঐ টাকা তুলে চুমু খাইনি।
টাকার গায়ে আমার রাজামশাই ও রাণী মা’র নাম লেখা আছে, তাই ভাবলাম, টাকাটা মাটিতে পড়ে
থাকলে হয়তো অন্য কোনো মানুষ পা দিয়ে পিষবে আর আমার রাজা ও রাণী
মা’র ইজ্জতের হানি হবে।
তাই আমি টাকাটা তুলে চুমু খেলাম এবং কপালে
ঠেকিয়ে সালাম করলাম।
এবার রাজামশাই আরও খুশি হয়ে জেলেকে আরও ১০০ টাকা দিলেন।
সর্বমোট ২০০ টাকা দিয়ে জেলে বিদায় করলেন।
আর রাজা ঘোষককে বললেন, তুমি সমগ্র রাজ্যে ঘোষণা করে দাও কেউ যেন বউয়ের বুদ্ধিতে না চলে।
আর এটাও বলে দাও বউয়ের বুদ্ধিতে চললে ৫০ টাকার জায়গায় ২০০ টাকা লোকসান হবে।









